কবিতাঃ

খুজিস্তা নূর ই নাহারীন মুন্নী
আমার জীবনে প্রথম পুরুষ আমার পিতা। যার শক্ত
বুকে মাথা রেখে গভীর শান্তিতে নিশ্চিতির ঘুম।
যার হাতে হাত রেখে এই পৃথিবীর শক্ত মাটিতে পা
ফেলা, আমার প্রথম হাঁটতে শেখা। পিতাই আমাকে
শিখিয়েছেন,’দৃঢ়ভাবে হাঁটতে না জানলে প্রতিটি
মুহূর্তে পিছলে পরার আশঙ্কা থাকে।’ অতএব
নিজেকে তৈরি কর আগে। দ্বিতীয় পুরুষ আমার
বড় তিন ভাই, যাদের আদরে আহল্লাদে আশ্রয়ে
প্রশ্রয়ে আমার বেড়ে ওঠা। সারাক্ষণ ওদের
অনুকরণে বই পড়া, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা,
টেনিস আর ব্যাডমিন্টন খেলা। জেনেছি- জীবন
অনেক বড়, অনেক সুন্দর, অনেক বেশি তৃপ্তি
আর আনন্দের। আমার তৃতীয় পুরুষটি আমার
স্বামী। আমার জীবনের দীর্ঘ ১৮টি বছর
সুখে-দুঃখে, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিতে যার সাথে
কাটিয়েছি। তার কাছ থেকে আমি দীক্ষা নিয়েছি,
’মানুষকে ভালোবাসার।’ আমার চতুর্থ এবং সবচেয়ে
আদরের পুরুষটি আমার সন্তান। যার কাছে আমার
চাওয়ার কোনো শেষ নেই। পৃথিবীর সমস্ত
ভালোত্ব মিশিয়ে আমি যাকে প্রতিটি মুহূর্তে সাঁজাই,
স্বপ্ন দেখি। এছাড়া জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে
আমার খেলার সাথী, সহপাঠী আমার কাজের
ক্ষেত্রে আমার পুরুষ কলিগ, আমার শিক্ষক
বিভিন্নজনের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আমি
যে সাহায্য-সহযোগিতা ও শিক্ষা পেয়েছি, তাদের
প্রতি কৃতজ্ঞতা না জানালে অন্যায় হবে। অবশ্যই
সমাজে এই সকল ভালো পুরুষরা না থাকলে আমার
আজকের এই অবস্থানে, এই পর্যায়ে আসা সম্ভব
হতো না কিছুতেই। নারী-পুরুষের সম্মিলিত
প্রচেষ্টাতেই আজকের এই সমাজ, এই সংসার, এই
পৃথিবী। এখানে কাউকে খাটো করে দেখার
কোনো অবকাশ নেই। সমাজের বেশির ভাগ
মানুষই ভালো বলে জীবন এত সুন্দর। আমরা সবাই
পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকতে চাই। কিন্তু জীবন
থেকেই শিখেছি- অন্যের ওপর সংঘটিত অন্যায়ের
প্রতিবাদ করতে না জানলে, ’একদিন সেই অন্যায়
আপনার নিজের ওপড়ই এসে আছাড়ে পড়বে।’
কয়েকদিন আগে ’সকাল-সন্ধ্যা’ নাটকের টুনি
চরিত্রে অভিনয় করা মেয়েটি, গাজীপুরের টুম্পা
আমার রক্তের কেউ নয়, কিন্তু হতে তো
পারতো! আমার আপনার প্রায় সবার ঘরেই প্রায় কন্যা
সন্তান। আমরা নিজেদের ঘাড়ে দোষ না নিয়ে
নিজের আদরের কন্যার কথা ভাবতে পারছি না
কেন! সমাজে মানুষ নামধারী কিছু নরপশু আছে
বলেই তো টুম্পাদের এভাবে অকালে নির্দয়তায়
চলে যেতে হয়। এই অন্যায় আর কতকাল! এখনই
রুখতে না পারলে একদিন দেখবেন আমার-আপনার-
আমাদের সবার ঘরেই এই অন্যায় অভিশাপ আছড়ে
পড়ছে। শত চাইলেও সেদিন আমরা গা বাঁচাতে
পারবো না কিছুতেই।
এমন হাজারও টুম্পারা অলক্ষ্যেই নির্মমতার শিকার
হচ্ছে। পত্রিকার পাতায়, টেলিভিশনের পর্দায়
প্রতিদিন তাদের নিথর দেহ সেই সাক্ষ্যই বহন
করে। কিন্তু বিচারে কারো সাঁজা হয়েছে এমনটি
শোনা যায় কি কখনো? আমার জিজ্ঞাসা, ’পুরুষ কবে
মানুষ হবে?’, কেবল তাদের জন্যই প্রযোজ্য।
আপনাদের একবারও কি মনে হয় না- ওরা মানুষ নয়?,
’হিংস্র জানোয়ার, নষ্ট পুরুষ’!!!খুজিস্তা নূর ই নাহারীন মুন্নী
আমার জীবনে প্রথম পুরুষ আমার পিতা। যার শক্ত
বুকে মাথা রেখে গভীর শান্তিতে নিশ্চিতির ঘুম।
যার হাতে হাত রেখে এই পৃথিবীর শক্ত মাটিতে পা
ফেলা, আমার প্রথম হাঁটতে শেখা। পিতাই আমাকে
শিখিয়েছেন,’দৃঢ়ভাবে হাঁটতে না জানলে প্রতিটি
মুহূর্তে পিছলে পরার আশঙ্কা থাকে।’ অতএব
নিজেকে তৈরি কর আগে। দ্বিতীয় পুরুষ আমার
বড় তিন ভাই, যাদের আদরে আহল্লাদে আশ্রয়ে
প্রশ্রয়ে আমার বেড়ে ওঠা। সারাক্ষণ ওদের
অনুকরণে বই পড়া, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা,
টেনিস আর ব্যাডমিন্টন খেলা। জেনেছি- জীবন
অনেক বড়, অনেক সুন্দর, অনেক বেশি তৃপ্তি
আর আনন্দের। আমার তৃতীয় পুরুষটি আমার
স্বামী। আমার জীবনের দীর্ঘ ১৮টি বছর
সুখে-দুঃখে, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিতে যার সাথে
কাটিয়েছি। তার কাছ থেকে আমি দীক্ষা নিয়েছি,
’মানুষকে ভালোবাসার।’ আমার চতুর্থ এবং সবচেয়ে
আদরের পুরুষটি আমার সন্তান। যার কাছে আমার
চাওয়ার কোনো শেষ নেই। পৃথিবীর সমস্ত
ভালোত্ব মিশিয়ে আমি যাকে প্রতিটি মুহূর্তে সাঁজাই,
স্বপ্ন দেখি। এছাড়া জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে
আমার খেলার সাথী, সহপাঠী আমার কাজের
ক্ষেত্রে আমার পুরুষ কলিগ, আমার শিক্ষক
বিভিন্নজনের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আমি
যে সাহায্য-সহযোগিতা ও শিক্ষা পেয়েছি, তাদের
প্রতি কৃতজ্ঞতা না জানালে অন্যায় হবে। অবশ্যই
সমাজে এই সকল ভালো পুরুষরা না থাকলে আমার
আজকের এই অবস্থানে, এই পর্যায়ে আসা সম্ভব
হতো না কিছুতেই। নারী-পুরুষের সম্মিলিত
প্রচেষ্টাতেই আজকের এই সমাজ, এই সংসার, এই
পৃথিবী। এখানে কাউকে খাটো করে দেখার
কোনো অবকাশ নেই। সমাজের বেশির ভাগ
মানুষই ভালো বলে জীবন এত সুন্দর। আমরা সবাই
পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকতে চাই। কিন্তু জীবন
থেকেই শিখেছি- অন্যের ওপর সংঘটিত অন্যায়ের
প্রতিবাদ করতে না জানলে, ’একদিন সেই অন্যায়
আপনার নিজের ওপড়ই এসে আছাড়ে পড়বে।’
কয়েকদিন আগে ’সকাল-সন্ধ্যা’ নাটকের টুনি
চরিত্রে অভিনয় করা মেয়েটি, গাজীপুরের টুম্পা
আমার রক্তের কেউ নয়, কিন্তু হতে তো
পারতো! আমার আপনার প্রায় সবার ঘরেই প্রায় কন্যা
সন্তান। আমরা নিজেদের ঘাড়ে দোষ না নিয়ে
নিজের আদরের কন্যার কথা ভাবতে পারছি না
কেন! সমাজে মানুষ নামধারী কিছু নরপশু আছে
বলেই তো টুম্পাদের এভাবে অকালে নির্দয়তায়
চলে যেতে হয়। এই অন্যায় আর কতকাল! এখনই
রুখতে না পারলে একদিন দেখবেন আমার-আপনার-
আমাদের সবার ঘরেই এই অন্যায় অভিশাপ আছড়ে
পড়ছে। শত চাইলেও সেদিন আমরা গা বাঁচাতে
পারবো না কিছুতেই।
এমন হাজারও টুম্পারা অলক্ষ্যেই নির্মমতার শিকার
হচ্ছে। পত্রিকার পাতায়, টেলিভিশনের পর্দায়
প্রতিদিন তাদের নিথর দেহ সেই সাক্ষ্যই বহন
করে। কিন্তু বিচারে কারো সাঁজা হয়েছে এমনটি
শোনা যায় কি কখনো? আমার জিজ্ঞাসা, ’পুরুষ কবে
মানুষ হবে?’, কেবল তাদের জন্যই প্রযোজ্য।
আপনাদের একবারও কি মনে হয় না- ওরা মানুষ নয়?,
’হিংস্র জানোয়ার, নষ্ট পুরুষ’!!!

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.